ঝালকাঠি-২ আসনে প্রার্থী নিয়ে বিএনপিতে বিভাজন

ঝালকাঠি-২ (সদর ও নলছিটি) আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে জেলা বিএনপির ভেতরে বিভাজনদেখা দিয়েছে। প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিও উঠেছে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জেলা বিএনপি ও দলের মনোনীত প্রার্থী পৃথক কর্মসূচি পালন করায় এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে।

দলের মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো একদিকে নিজ উপজেলা নলছিটিতে কর্মসূচিতে অংশ নেন, অপরদিকে জেলা বিএনপি সদরে দলীয় প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে প্রোগ্রাম করে। দুই কর্মসূচির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে দলীয় টানাপোড়েন, যা এখন সংগঠনের ঐক্যের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে নেটিজেনরা।

এদিন বিকেলে শহীদ মিনারে জেলা বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা আমিনা আল গাজী (জিবা আমিনা)। সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, পৌর বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট নাছিমুল হাসান, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক খোকন মল্লিক, ও নলছিটি উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী।

বক্তারা বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে প্রার্থী ইলেন ভুট্টো জেলা কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেছেন, দলের ঐক্যের আহ্বান থাকা সত্ত্বেও প্রার্থী ইলেন ভুট্টো বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে আসেননি। তিনি বিগত দিনের আন্দোলনের সময়ও ছিলেন না। এখন হামলা-মামলার ভয় নেই, তবুও তিনি অনুপস্থিত।

তিনি আরও বলেছেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ বিএনপি চাই। কিন্তু যারা আন্দোলনে ছিলেন না, হঠাৎ প্রার্থী হলে কর্মীরা নিরুৎসাহিত হন। তৃণমূলের পরিশ্রমী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে, দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

প্রধান অতিথি জেবা আমিনা আল গাজী ইলেন ভুট্টোর অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ইলেন ভুট্টোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জাতীয় কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে আপনি কেন অনুপস্থিত? আপনি তো ১/১১–এর সময় সংস্কারপন্থি দলের সঙ্গে ছিলেন। আমি ১৬-১৭ বছর নির্যাতন সহ্য করেও রাজপথ ছাড়িনি। অথচ আপনাকে ঝালকাঠির কোনো আন্দোলনে দেখিনি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন ও কেন্দ্রীয় নেত্রী জিবা আমিনা আল গাজী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এদের মধ্যে দল থেকে ইলেন ভুট্টোকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই জেলা বিএনপিতে অসন্তোষ দেখা দেয়।

অন্যদিকে নলছিটিতে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার অহিদুল ইসলাম বাদল, বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা ছালু, সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম মান্নাসহ আরও অনেকে।

ইলেন ভুট্টো বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। কেউ কেউ আমাকে মেনে নিতে পারছেন না, এটা দুঃখজনক। মনোনয়ন পাওয়ার পরে আমি মনোনয়নবঞ্চিত ও জেলার সব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের জন্য কাজ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের রাজনীতিতে গণমানুষের আশা জাগিয়েছিলেন। এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই আদর্শ পুনরুদ্ধারের।

দলীয় এই বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দল বুঝে শুনে যে যোগ্য তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তার পক্ষে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। কেউ কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। আর কেউ এটা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেছেন, রাজনীতিতে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু সেটি বিভেদের রূপ নেওয়া ঠিক নয়। নির্বাচনের আগে এমন অস্থিরতা দলের জন্য ক্ষতিকর। এখন অভিযোগ নয়, ঐক্যের রাজনীতি করার সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *