চীনের অর্থায়নে চবিতে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’

চবি প্রতিবেদক: চায়না ও বাংলাদেশ কো-অপারেশনের মাধ্যমে বাংলা ও চাইনিজ ল্যাংগুয়েজ, স্ব সংস্কৃতি, গবেষণা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, স্কলারশিপের বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি এবং চাইনিজ গভর্নমেন্টের সরাসরি ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট।

সম্প্রতি গত ১২ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর বেইজিং সফরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. কামাল উদ্দিন ও রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ সম্পর্কে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাইনিজ মিনজু ইউনিভার্সিটি এবং চাইনিজ গভর্নমেন্ট কর্তৃপক্ষকে ০.৫ একর জমি প্রদান করা হবে এই ইনস্টিটিউটির জন্য। স্থাপনা, ভবন নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপসহ যাবতীয় খরচ চায়না গভর্নমেন্টই বহন করবে। আগামী বছরের অক্টোবরের আগেই এটি বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো যোগ করেন, এটি প্রতিষ্ঠিত হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে স্কলারশিপ দিয়ে বিনাখরচে পড়াশোনার জন্য চায়নাতে পাঠাতে পারব। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল সায়েন্স এবং বাংলা ডিপার্টমেন্টে পড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওই (ইউনান মিনজু) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বাংলা শিখতে চায়।

তিনি আরো বলেন, ইনস্টিটিউট থেকে আয়কৃত অর্থ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিনজু ইউনিভার্সিটি তথা চায়না গভর্নমেন্টের যৌথ সহযোগিতায় পরিচালনা করা হবে। চায়না এবং বাংলাদেশ থেকে এখানে দুইজন ডাইরেক্টর পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা চিনে পড়তে যাবেন এবং চাইনিজরাও বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের মাধ্যমে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহইয়া আখতার বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে চাইনিজরা আসলে আমেরিকা কিংবা অন্য কোনো পরাশক্তির চক্ষুশূল হবো না। যদি জাপান চায়, তাকেও আমরা সুযোগ দেব, আমেরিকা চাইলে আমেরিকাকেও আমন্ত্রণ জানাই। কেননা, আমরা কোনো পলিটিক্যাল কনসেনট্রেশান থেকে নয়, অ্যাকাডেমিক কনসেনট্রেশান থেকেই কাজগুলো করছি। যদি আমার এই কনফুসিয়াস সেন্টার বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কী পরিমাণ উপকৃত হবেন, সেটা বলে বোঝাতে পারব না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *