রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জুলাই অভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিনেট ভবনে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ‘বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের সফলতা ও ব্যর্থতার পাঠ: ৭ নভেম্বর থেকে ৫ আগস্ট’ শীর্ষক এ আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে সিনেট ভবনে আয়াজিত হয় সেমিনারটি৷ এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মো. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, বিপ্লব থেকে পাওয়া শিক্ষা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে রাষ্ট্র ও সমাজ উপকৃত হয়। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে অনেক দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে, কিন্তু আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থান আগের তুলনায় শক্তিশালী। বিপ্লবী শক্তির মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে জুলাইয়ের অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. মাইন উদ্দিন বলেন, বিপ্লবীরা নিজেদের গতিমতের মধ্যে এতটাই ব্যস্ত যে এতে অর্জিত বিজয় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ও ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ডা. মাহামুদুল রহমান দাবি করেন, ৭ নভেম্বর ১৯৭৫-ই ছিল প্রকৃত মুক্তির দিন। সেদিন দেশের ওপর আন্তর্জাতিক প্রভাবের বাঁধন ভেঙেছিল। আর গত জুলাইয়ে ফ্যাসিস্ট শক্তি ও ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির পতন আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে সদ্য সমাপ্ত জুলাইয়ে। জুলাই বিপ্লব হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে এর গতি কমে যেতে পারে এবং ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরুত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, জুলাইয়ের সফলতাকে আমরা নিজেদের মতো করে উপলব্ধি করতে না পারায় এর অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চেতনা ব্যবসা ও ধর্ম ব্যবসা যেভাবে বাড়ছে, তাতে নতুন ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর উত্থানের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। দুই বছর পর হয়তো আবার তরুণদের রাস্তায় নামতে হবে; তখন হয়তো ১৫০০ নয়, ৫০০০ যুবকের রক্ত ঝরবে। ছেলেদের রক্ত কি এতই তুচ্ছ?
উল্লেখ্য, অধ্যাপক আক্তার হোসেন মজুমদারের সঞ্চালনায় এই তৃতীয় বার্ষিকী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ছাত্র উপদেষ্টা, ছাত্র নেতা, রাকসু প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক সহ প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
