বিএনপি’র আদর্শ বিচ্যুতি ও করণীয় সম্পর্কে যা বললো জাহিদুল ইসলাম

বিএনপি’র আদর্শ বিচ্যুতি ও করণীয় সম্পর্কে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

পাঠকদের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞপ্তি হুবহু তুলে ধরা হলো

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে যতটুকু জানার সুযোগ হয়েছে, আমি ছাত্রসংগঠক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে উনার প্রতি মুগ্ধ। এর বিশেষ ৩টি কারণ:

১. বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভাজনের দেয়াল ভেঙে তিনি ঐক্যের সূচনা করেছিলেন।
২. আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে উনার সাহসী অবস্থান।
৩. পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে কৌশলী অবস্থান ছিল দূরদর্শী নেতৃত্বের গুণাবলি।

তিনি কবেন,শৈশব থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও খুনি হাসিনাকে দেখে বড় হয়েছি। বেগম জিয়ার চরিত্রের অন্যতম দিক ছিল ‘নম্রতা বা সফটনেস’। যেখানে খুনি হাসিনা সম্পূর্ণ তার বিপরীত। তবে বেগম জিয়াকে যে পরিচয়ে সবচেয়ে বেশি চিনেছি তা হলো—দেশের স্বার্থে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’। যার প্রমাণ ১/১১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করছি। তিনি জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন কিন্তু ফ্যাসিবাদ ও দেশবিরোধী কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে ন্যূনতম মাথা নত করেননি।

বেগম জিয়ার অসুস্থতায় দলমত-নির্বিশেষে সবাই যেভাবে দোয়া করছেন, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে খুব কম মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটেছে। বাংলাদেশের পরিবর্তিত নতুন এই সময়ে উনার চিন্তা ও পরামর্শ আমাদের এই প্রজন্মের খুব বেশি প্রয়োজন। আল্লাহ উনাকে সুস্থ করে দিন। আমিন।

জনাব তারেক রহমানকে যতটুকু দেখেছি উনাকে একজন স্মার্ট ব্যক্তি হিসেবে জানি। কথিত দুর্নীতি ও হাওয়া ভবন ইস্যুতে উনার বিষয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও আমি উনাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলাম যে, ৩৬ জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে তিনি রাজনীতিতে নয়া সংস্কৃতি ও একটি স্মার্ট মুভ দিবেন। উদারতা সমৃদ্ধ ও বিভাজন মুক্ত রাজনীতি করবেন। কিন্তু গত দেড় বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি’র যে চরিত্র তা কোনোভাবেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার আদর্শের সাথে মিলাতে পারছি না। আমি জানি না এতে জনাব তারেক রহমানের হাত আছে কি না; নাকি অন্য কোনো শক্তি বা নেতাদের দ্বারা তিনি প্রভাবিত হচ্ছেন। বিশেষত ছাত্রদলের সাথে ছাত্রশিবিরের ৩৬ জুলাই অভ্যুত্থানের আগের সম্পর্ক ও পরের সম্পর্কের মাঝে যে এক অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা—এটা ঠিক কার ইচ্ছায় আল্লাহ ভালো জানেন।

আমি নির্ভরযোগ্য তথ্যের আলোকে এটা জানি যে—জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপি’র সাথে জাতীয় স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েই সম্পর্ক অটুট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, যা এখনো চলমান। কিন্তু এক্ষেত্রে বিএনপি’র পক্ষ থেকে জামায়াতের প্রতি অনেকটা তাচ্ছিল্যের আচরণ করা হয়েছে। বিএনপি নিজেদেরকে ও আওয়ামী লীগ ছাড়া কাউকে সরকারি দল ও বিরোধী দল হিসেবেই ভাবতে রাজি নয়। কী আজব চিন্তা! দেখা যাক সময় বলে দিবে এই চিন্তা কতটুকু বাস্তব। তারা সবচেয়ে মারাত্মক যে পলিসি নিয়েছে তা হলো—ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো ৭১’র সঠিক স্পিরিট লালন না করে ৭১, ৭১, ৭১ জিকির তোলা। আদর্শিক বয়ানের বিপরীতে চেতনার ব্যবসা এই প্রজন্ম কতটা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে তা বোঝার মতো জ্ঞান কি তারেক রহমানের হয় নাই!! বিএনপি ঠিক কার ইশারায় বিভাজনের সেই পুরনো রাজনীতিতে ডুব দিলো—তা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়!

২০১৫ সালে আমি যখন কারাগারে যাই আমাকে আহত অবস্থায় আমদানি সেল থেকে কারা হাসপাতালে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে অনেককে পেলাম, যাদের পায়ে গুলি করা হয়েছিল। অনেকের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সেকি বীভৎস চিত্র, যা ভাষায় প্রকাশ করার নয়! প্রায় ৬ মাস কারা জীবনে ছাত্রশিবির ও জামায়াতের ভাইদের নির্যাতনের চিত্র ও ঘটনা যেমন দেখেছি, ঠিক বিএনপি’র ভাইদের অনেক ইতিহাসও আমার জানা আছে। গত প্রায় ১৫টি বছর খুনি হাসিনা ছাত্রশিবির ও জামায়াতের ওপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার বিএনপির নেতা-কর্মীদের খু*ন, গুম, রিমান্ড, বাড়িঘর ছেড়ে ধানখেত ও খালবিলে জীবন কাটাতে হয়েছে—তার সাক্ষী আমরা। কিন্তু ৩৬ জুলাই-পরবর্তী বিএনপির পলিসিমেকাররা ঠিক কোন রাজনীতি শুরু করলেন—আমি কিছুতেই তার হিসাব মিলাতে পারি না।

আমি জনাব তারেক রহমানের ওপর আশাহত হতে চাই না। উনি কারও শৃঙ্খলে আবদ্ধ না থেকে নিজের স্বকীয়তা ও পিতা-মাতার রক্তকে ধারণ করে রাজনীতি করুক। আমার বিশ্বাস—ছাত্রশিবিরসহ সকল দেশপ্রেমিক বিপ্লবী শক্তি উনাকে ভালোবেসে সহযোগিতা করবে। আমরা কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে না। যাদের মাঝে ফ্যাসিবাদী আচরণ ও আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করার প্রবণতা দেখা যায়—বিশ্বাস করুন এই প্রজন্ম তাদেরকে একদম সহ্য করতে পারে না।

দুটি কথা বলে রাখি, ইনশাআল্লাহ সময় করে ভবিষ্যতে মিলিয়ে নিবেন—
১. শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রীর আদর্শকে বিএনপি যতদিন ধারণ করতে পারবে, সে আলোকে দলের পলিসি নির্ধারণ করতে পারবে, ঠিক ততদিন বাংলাদেশে বিএনপি টিকে থাকবে। উনাদের ২ জনের আদর্শকে মাইনাস করে এর বিপরীত চিন্তা ও রাজনীতি কোনোভাবেই টিকবে না। আস্তে আস্তে হারিয়ে যাবে।

২. বাম ও কথিত বন্ধু রাষ্ট্র (আ’ধি’প’ত্য’বাদী) এ দেশের কোনো দিনই ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার করে নাই। স্বার্থ হাসিল, বিভাজন ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামবিদ্বেষই তাদের প্রধান এজেন্ডা। তারা যাদের ওপর সওয়ার হয় দেশের ক্ষতির পাশাপাশি সেই দল বা আদর্শের ১২টা বাজিয়ে ছেড়ে দেয়।

আমাদের মনে রাখা উচিত—ক্ষমতা কখনোই স্থায়ী হয় না, কিন্তু আচরণ ও আদর্শ মানুষকে ভালোবাসা কিংবা ঘৃণার স্থায়ী পাত্র বানিয়ে দেয়। মহান আল্লাহ আমাদেরকে দেশের স্বার্থে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *