ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ, প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ

ট্রাম্প প্রশাসনের ভেনেজুয়েলায় একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কয়েকটি শহরে রবিবার বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সম্ভাব্য যুদ্ধের বিরোধিতা করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে মাদুরোকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসে মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে আদালতে তোলাকে অবৈধ বলে আখ্যা দেয়।

মাদুরোকে স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে তোলার কথা রয়েছে। শিকাগো, ডালাস, নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, পিটসবার্গ, সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটলসহ যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলজুড়ে বড় শহরগুলোতে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

শিকাগো কমিটি অ্যাগেইনস্ট ওয়ার অ্যান্ড রেসিজমের অ্যান্ডি থেয়ার স্থানীয় এবিসিকে বলেন, ‘হোক সেটা সাদ্দাম হুসেইনের ইরাক বা আফগানিস্তানে তালেবান, পানামা, লিবিয়া—আপনি যা-ই বলুন। যখনই যুক্তরাষ্ট্র এভাবে আরেকটি দেশে হামলা করে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহায় সেই দেশের সাধারণ মানুষ।’

অনেকে যুক্তি দেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ভেনেজুয়েলায় এমন হামলা চালানোর সাংবিধানিক ক্ষমতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেই। সিনিয়র ডেমোক্র্যাটরা রবিবার কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ায় ট্রাম্পকে তীব্র সমালোচনা করেন, আর আন্তর্জাতিক নেতারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করেছে।

সিয়াটলে অ্যাক্ট নাও টু স্টপ ওয়ার অ্যান্ড অ্যান্ড রেসিজম নামের সংগঠনের আয়োজিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ‘নো ব্লাড ফর অয়েল’ এবং ‘স্টপ বোম্বিং ভেনেজুয়েলা নাও!’— লেখা প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরেন।

অ্যাক্ট নাও টু স্টপ ওয়ার অ্যান্ড রেসিজমের সংগঠক টেইলর ইয়াং ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি এমন একটি দেশের সঙ্গে সংহতি জানাতে, যার সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আমাদের সরকার আমাদের ট্যাক্সের টাকায় লঙ্ঘন করেছে। তিনি আরো বলেন, ‘অন্তত আমরা এতটুকু বলতে পারি—আমরা চুপচাপ দাঁড়িয়ে এটা ঘটতে দেব না।’

রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের বড় অংশ ট্রাম্পের পদক্ষেপের প্রশংসা অব্যাহত রাখেন, যদিও অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ‘দেশটি চালাবে’ এমন মন্তব্য থেকে সরে আসার চেষ্টা করেন।

মিনেসোটার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম এমার ফক্স নিউজে বলেন, ‘গড ব্লেস দিস প্রেসিডেন্ট অব পিস, ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।

বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভেনেজুয়েলানদের দেশান্তরবিরোধী স্লোগানও দেন। কর্মী সংগঠন কোড পিঙ্কের ওলিভিয়া ডিনুচ্চি ফিলাডেলফিয়ার বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করছি, একই সঙ্গে আমাদের প্রতিবেশীদের তুলে নিয়ে সেই দেশেই ফেরত পাঠাচ্ছি যে দেশগুলো আমরা নিজেরাই অস্থিতিশীল করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *