ভেনেজুয়েলা আমাদের এলাকা দাবি ট্রাম্পের

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলাকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিজস্ব এলাকা’ বা প্রভাববলয়ের মধ্যে পড়ে এবং ওয়াশিংটনের দায়িত্ব হলো এটিকে ‘ফিরিয়ে আনা’। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেলখাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ছাড়া ভেনেজুয়েলাকে ফের দাঁড় করানো যাবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা না মানলে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও নিকোলাস মাদুরোর মতো পরিণতির মুখে পড়তে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, গলফ কোর্স মার-আ-লাগো থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এসময় সরকার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) ও রাষ্ট্রগঠন বিরোধী তার আগের মন্তব্যের প্রসঙ্গ স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা আমাদের এলাকা, ডন-রো নীতি। আমরা চাই আমাদের আশপাশের দেশগুলো টিকে থাকুক, সফল হোক— আর তেল যেন নির্বিঘ্নে বাইরে আসতে পারে।’

ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলাকে ‘ফিরিয়ে আনতে’ হবে এবং দেশটিকে তিনি ‘মৃত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘অবকাঠামো ফের দাঁড় করাতে তেল কোম্পানিগুলোর বড় বিনিয়োগ দরকার হবে’। পরে আবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজে ‘কিছুই বিনিয়োগ করবে না’, তবে ‘দেশটির দেখভাল করবে’ এবং ‘মানুষদেরও… ভেনেজুয়েলানসহ… যারা নিজের দেশ ছেড়ে এসে এখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন।’

এক সাংবাদিক জানতে চান— ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এখন কি দেশটির নেতৃত্ব দেবেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, তার লোকজন রদ্রিগেজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা না শোনেন, তাহলে তার পরিণতিও মাদুরোর মতো হতে পারে। পরে কিউবার বিরুদ্ধে দেয়া হুমকির প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ওই ক্যারিবীয় দেশটি ‘নিজেই পড়ে যাবে’। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে একই ধরনের পদক্ষেপ নেবে কি না সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তিনি।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একই বিমানে ছিলেন এবং তিনিও প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপের পক্ষে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অন্য কোনও সামরিক বাহিনী এভাবে মাদুরোকে জীবিত আটক করতে পারত না। তিনি আরও বলেন, ‘দেখেন… কিউবার পালা আসছে। কিউবা একটা কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র, তারা পুরোহিত-নানদের হত্যা করেছে, নিজেদের মানুষকে ভিকটিম বানিয়েছে। তাদের সময় ফুরিয়ে আসছে।’

এদিকে ভেনেজুয়েলায় এই সামরিক অভিযান আসলে তেল নাকি সরকার পরিবর্তনের জন্য; একজন সাংবাদিক এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প জবাব দেন, বিষয়টি ‘পৃথিবীতে শান্তি’ আনার জন্য। তিনি বলেন, ‘মনরো ডকট্রিন যখন করা হয়েছিল, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ের অনেক প্রেসিডেন্ট তার গুরুত্ব ভুলে গেছেন। আমি ভুলিনি, আমি ভুলিনি।’

প্রসঙ্গত, মনরো ডকট্রিন ছিল ঊনবিংশ শতকের শুরুর দিককার এক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি। এখানে বলা হয়েছিল, ইউরোপীয় শক্তিগুলো পশ্চিম গোলার্ধে প্রভাব বিস্তার করবে না। পরে প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট এই নীতির ব্যাখ্যা আরও বিস্তৃত করেন। তিনি বলেন, কোনও দেশ নিজস্ব স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে না পারলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *