২০ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ থাকবে আরও কয়েকদিন

বাংলা ঋতুচক্রে পৌষ মাস প্রায় শেষের দিকে। এই সময়ে স্বাভাবিকভাবেই শীতের তীব্রতা থাকে বেশি। এর সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ যোগ হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। আগের দিন বৃহস্পতিবার দেশের ২৪টি জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও গতকাল শুক্রবার তা কমে ২০টিতে নেমেছে। তবে এই শৈত্যপ্রবাহ এখনই শেষ হচ্ছে না। অন্তত এ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের দিন বুধবারও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে তা রেকর্ড করা হয়েছিল নওগাঁর বদলগাছীতে। এটিই এখন পর্যন্ত এই শীত মৌসুমের দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে গতকাল চুয়াডাঙ্গা ও পাবনায় ৮ দশমিক ৫, কুড়িগ্রামে ৯, সিরাজগঞ্জে ৯ দশমিক ১, নীলফামারী ও রাজশাহীতে ৯ দশমিক ৪, যশোরে ৯ দশমিক ৫, রংপুরে ৯ দশমিক ৬, কুষ্টিয়া ও দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৮ এবং বগুড়ায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে জেলার সংখ্যা ১৬। সব মিলিয়ে ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ শনিবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। শনি ও রোববার সারা দেশের রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, শৈত্যপ্রবাহ কয়েক দিন চলতে পারে। আগামী দুদিন পর তাপমাত্রা খানিকটা বাড়তে পারে। তবে তারপর আবার তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। এতে নতুন নতুন জেলা যুক্ত হতে পারে, আবার কিছু জেলা বাদ পড়তে পারে।

তিনি আরও জানান, শ্রীলঙ্কার উপকূলে এখন একটি নিম্নচাপ আছে। এর জন্য বায়ুতে উষ্ণতা ছড়িয়ে আছে। এ কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশা কিছুটা কেটেছে। তবে কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালীসহ ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশা রয়ে গেছে।

এদিকে পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে বয়ে আসা হাড়কাঁপানো হাওয়া শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি রাত গভীর হলেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে জেলার সড়ক ও মহাসড়কগুলো। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে, কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না। ফলে সকালেও মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবিকার তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোরেই কাজে বের হতে হচ্ছে তাদের।

বোদা উপজেলার মন্নাপাড়া এলাকার দিনমজুর মতিয়ার বলেন, এত শীতে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। হাত-পা অবশ হয়ে যায়, তবুও কাজ না করলে সংসার চলে না।

কলেজপাড়া এলাকার ভ্যানচালক ময়নুল বলেন, ভোরে বের হলে কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যায় না। যাত্রীও খুব কম পাওয়া যায়, ভাড়াও ঠিকমতো মেলে না।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার তালমা এলাকার বাসিন্দা রমজান বলেন, এত ঠান্ডায় হাঁটাচলা করা যায় না। কৃষি কাজ-কাম বন্ধ হয়ে আছে। বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকতে হয়।

বোদা উপজেলার নয়াদীঘি এলাকার বাসিন্দা নুরনবী বলেন, ঘরে কম্বল আছে, তাতে শীত নিবারণ হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *