সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে উন্মুক্ত নির্বাচন চায় জনগণ, ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষণার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ঘোষণার পর সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) সংসদীয় আসনে উন্মুক্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছে সাধারণ জনগণ। জোট ঘোষণার আলোকে এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর শায়খ ড. মাওলানা আব্দুস সামাদকে রেখে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আব্দুর রউফকে জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই ঘোষণার পরপরই এলাকায় শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিকভাবে সচেতন মহলের একটি অংশ উন্মুক্ত নির্বাচন হলে ভোটের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে বলে মনে করছেন।

তাড়াশ উপজেলার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, “এই আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি অধ্যুষিত। এখানে যদি জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক থাকত, তাহলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতো। বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কথা। কিন্তু জোটের প্রার্থী হিসেবে রিকশা প্রতীক একেবারেই নতুন। জনগণ এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।”

এ বিষয়ে জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুর রউফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জোটের পক্ষ থেকে আমাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। খুব দ্রুতই জোটের অন্যান্য শরিকদের সঙ্গে বসে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করব।”

জেলা যুব মজলিসের সেক্রেটারি মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, “ঘোষণার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। কিছু জায়গায় সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকলেও আমরা আশাবাদী যে ভালো ফলাফল করতে পারব।”

অন্যদিকে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর আলী মর্তুজা বলেন, “সিরাজগঞ্জ-৩ আমাদের একটি সম্ভাবনাময় আসন। ইতোমধ্যে আমরা নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। রায়গঞ্জে জামায়াতের দু’বার উপজেলা চেয়ারম্যান ছিল, পৌরসভার মেয়র ছিল। বর্তমানে আমাদের রায়গঞ্জ ও তাড়াশে সাংগঠনিক অবস্থান অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। সর্বশেষ যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে এখানে উন্মুক্ত নির্বাচন হলে সেটিই ভালো হবে। জাতীয় স্বার্থে আমরা জোটকে ধারণ করি এবং কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছি।”

এছাড়াও, এই আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে যেন চলছে উৎসবের আমেজ। তারা জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় নিশ্চিত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মীরা পোস্ট করছেন।

এদিকে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই যেন ভোটাধিকার নিশ্চিত হয় এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *