‘দায়িত্বে থাকার শেষ চার মাস আমাকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি’

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অভিযোগ করেছেন, সরকারে দায়িত্ব পালনকালে শেষ চার মাস তাকে কার্যত কাজ করতে দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্রকল্প লাইব্রেরি’ আয়োজিত ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণভোটের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনায় মাহফুজ আলম আরও মন্তব্য করেন, যে রাজনৈতিক দলের প্রতি মানুষের বড় ধরনের প্রত্যাশা ছিল, তাদের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তিনি এখন আর সেই দলের সঙ্গে নেই।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দায়িত্বে থাকার শেষ চার মাসে তাকে কোনো কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

কারণ আমরা চেয়েছিলাম, নতুন মিডিয়া আসুক। পাঁচ-সাতটা নতুন মিডিয়া এসেছে। ওরা অভ্যুত্থান ও তরুণদের পক্ষে কিছু ভালো কাজ করেছে। এতেই পুরাতন বন্দোবস্তের যারা আছেন, তাদের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ ভীতি সঞ্চার হয়েছে। তাই আমরা যেন কোনোভাবেই কাজ করতে না পারি, তারা সেই ব্যবস্থা করেছে।

মাহফুজ বলেন, পুরাতন বন্দোবস্ত থেকে নতুন বন্দোবস্তে পদার্পণের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় লাগবে। ক্ষমতার কাঠামোর পুনর্বিন্যাস লাগবে। সম্পদ এবং ভূমির পুনর্বিন্যাস লাগবে।

জাতীয় পুঁজির পুনর্বিন্যাস লাগবে। সেক্ষেত্রে এখানকার অলিগার্ক বা আমলারাসহ যারা আছে, তাদের ‘ডিসমেন্টাল’ করতে হবে। আওয়ামী লীগের জন্য যে সিভিল সোসাইটি এবং কালচারাল সফট পাওয়ার ‘আবে হায়াতের’ মতো ছিল, তাকে ডিসমেন্টাল করতে হবে। পুরাতন বন্দোবস্তের লোকদের বসিয়ে নতুন বন্দোবস্ত সম্ভব না। তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটা নতুন রাজনৈতিক পরিষদ তৈরি হবে।

একটা প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত হবে এবং তারা রাজনৈতিকভাবে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু আমরা কখনোই এটা চাইনি যে, একটা ধর্মপন্থী রাজনৈতিক দলের সাথে গিয়ে উনারা আঁতাত করবেন। এটার জন্য আমরা এই রাষ্ট্রকল্প লাইব্রেরি বা গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি করিনি। মাহফুজ আরও বলেন, আমরা এনসিপি বা নাগরিক কমিটিকে এজন্য পলিসি সাপোর্ট দিয়েছি যে, তারা একটা শক্তিশালী তৃতীয় শক্তি আকারে বাংলাদেশের জনগণের সামনে থাকবে। যেটা মানুষকে বলবে যে, এই পুরাতন বন্দোবস্ত যারা চায়, তাদের বাইরে আমরা আপনাদের ভয়েস হতে চাই।

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি আমাদের পথ দেখিয়েছেন। যে সিস্টেম আমাকে হাসিনার নামে শোষণ করেছে, আমরা যদি সেই সিস্টেমের কাছে আত্মসমর্পণ করি! যে সিস্টেমের অধীনে থেকে রাজনৈতিক দলগুলো অপারেট করছে এবং গত দুই বছরে পদে পদে সংস্কার ও বিচারের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিচার ও বিভিন্ন তদন্ত কমিটিকে নিজেদের রাজনৈতিক বার্গেনিং টুল হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই দলগুলার কাছে গিয়ে আমার আত্মসমর্পণ করাটা আমি মনে করি ভূতের মতো পিছে হাটার মতো।

মাহফুজ আলম বলেন, যে স্বপ্নটা নিয়ে শুরু করছিলাম, সে স্বপ্নটা জাগিয়ে রাখতে আমি ব্যক্তিগতভাবে, সামষ্টিকভাবে আমার কাজ করে যাচ্ছি। আমরা হয়তো একটা নতুন প্ল্যাটফর্ম করব বা কিছু একটা চেষ্টা করব। আমরা অন্তত এই আশাটা বাঁচিয়ে রাখতে চাই যে, বিকল্প সম্ভব। ‘বিকল্প আমরা’ বলে যদি আমরা আবার পুরাতন দলের কাছে দাসখত দেই, তাহলে আর বিকল্প আমরা থাকি না। মানুষ আমাদের এজন্য বিশ্বাস করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *