যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি (রাজনৈতিক বিষয়ক) অ্যালিসন হুকার এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সব কর্মসূচিতে দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে, বিশেষ করে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

জবাবে অ্যালিসন হুকার বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এমন প্রত্যাশা তারা করছে।

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভিসা বন্ডের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করার অনুরোধ জানান এবং সম্ভব হলে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি-১)-কে ভিসা বন্ডের আওতার বাইরে রাখার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে অ্যালিসন হুকার বলেন, ভবিষ্যতে পর্যটকদের ‘ওভারস্টে’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে ভিসা বন্ড সংক্রান্ত শর্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় দাতা উল্লেখ করে তিনি এই সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন।

এ সময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের বড় ধরনের দায়ভার বহনের প্রশংসা করেন অ্যালিসন হুকার। একই সঙ্গে সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃত দায় ভাগাভাগির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে অবস্থানকালীন রোহিঙ্গাদের জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশি বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি (ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন) অর্থায়ন এবং দেশে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়ন খাতে অর্থায়নের সুযোগ বিবেচনার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।

এছাড়া, গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানান ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান অ্যালিসন হুকার।

এদিকে, পৃথক বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমান আসন্ন নির্বাচন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন ড. খলিলুর রহমান। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী (ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ) মাইকেল জে. রিগাস তাকে শপথ পাঠ করান।

আরও পড়ুন: নিজের পাওয়া নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দিলেন মাচাদো

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর যাত্রায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে। নির্বাচনের ফলাফল দেখতে আমি আগ্রহী এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই।’

এছাড়া ১২ জানুয়ারি ড. খলিলুর রহমান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল পরিদর্শন করেন। সেখানে কনসাল জেনারেল আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটে বৃহত্তর নিউইয়র্ক অঞ্চলের প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন।

তিনি জানান, ভোটারদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটের বিষয়ে তথ্য জানাতে কনস্যুলেট কাজ করে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি (রাজনৈতিক বিষয়ক) অ্যালিসন হুকার এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সব কর্মসূচিতে দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে, বিশেষ করে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

জবাবে অ্যালিসন হুকার বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এমন প্রত্যাশা তারা করছে।

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভিসা বন্ডের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করার অনুরোধ জানান এবং সম্ভব হলে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি-১)-কে ভিসা বন্ডের আওতার বাইরে রাখার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে অ্যালিসন হুকার বলেন, ভবিষ্যতে পর্যটকদের ‘ওভারস্টে’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে ভিসা বন্ড সংক্রান্ত শর্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় দাতা উল্লেখ করে তিনি এই সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন।

এ সময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের বড় ধরনের দায়ভার বহনের প্রশংসা করেন অ্যালিসন হুকার। একই সঙ্গে সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃত দায় ভাগাভাগির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে অবস্থানকালীন রোহিঙ্গাদের জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশি বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি (ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন) অর্থায়ন এবং দেশে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়ন খাতে অর্থায়নের সুযোগ বিবেচনার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।

এছাড়া, গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানান ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান অ্যালিসন হুকার।

এদিকে, পৃথক বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমান আসন্ন নির্বাচন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন ড. খলিলুর রহমান। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী (ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ) মাইকেল জে. রিগাস তাকে শপথ পাঠ করান।

আরও পড়ুন: নিজের পাওয়া নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দিলেন মাচাদো

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর যাত্রায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে। নির্বাচনের ফলাফল দেখতে আমি আগ্রহী এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই।’

এছাড়া ১২ জানুয়ারি ড. খলিলুর রহমান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল পরিদর্শন করেন। সেখানে কনসাল জেনারেল আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটে বৃহত্তর নিউইয়র্ক অঞ্চলের প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন।

তিনি জানান, ভোটারদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটের বিষয়ে তথ্য জানাতে কনস্যুলেট কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *